হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে ৩৫দেশকে নিয়ে জোট গঠনের উদ্যোগ যুক্তরাজ্যের

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পথ খুঁজতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য। এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার একটি ভার্চুয়াল বৈঠক আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে প্রায় তিন ডজন দেশের অংশগ্রহণের কথা জানা গেছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, বৈঠকটি পরিচালনা করবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আলোচনার মূল বিষয় থাকবে—নৌপথে চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা, আটকে থাকা জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা।
পারস্য উপসাগরকে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের সঙ্গে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে ইরানের হামলা ও হুমকির কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে—তেলের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং দাম বেড়ে গেছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নিচ্ছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়। তিনি মিত্র দেশগুলোকেও নিজেদের প্রয়োজন নিজেরাই সামাল দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বর্তমান সংঘাত পরিস্থিতিতে ইরান ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও মাইন ব্যবহার করে জাহাজে হামলা চালাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে কোনো দেশই সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত হলে কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে বিভিন্ন দেশের সামরিক বিশেষজ্ঞরা আলাদা বৈঠকে বসবেন বলে জানা গেছে।
ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা, জাপান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ৩৫টি দেশ একটি যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে। এতে হরমুজ প্রণালি অবরোধের যেকোনো প্রচেষ্টা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা দ্রুত সম্ভব নয়। এর জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ, সামরিক প্রস্তুতি এবং সামুদ্রিক খাতের সঙ্গে সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন হবে।
প্রতি / এডি / শাআ












